
কোভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এপ্রিল মাসে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রণোদনা পরিকল্পনা। নিচে এই প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
মোট প্যাকেজের পরিমাণ
প্রণোদনার প্রধান খাতগুলো
রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে মজুরি সহায়তা – ৫,০০০ কোটি টাকা।গার্মেন্টস ও অন্যান্য রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য। ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সরাসরি টাকা পাঠানো হয়।
শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ঋণ সুবিধা – ৩০,০০০ কোটি টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত বড় ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য কম সুদে ঋণ। এই ঋণ সাড়ে ৪% সুদে শিল্পপ্রতিষ্ঠান পায়, বাকি ৪.৫% সরকার ভর্তুকি দেয়।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্যাকেজ – ২০,০০০ কোটি টাকা। SME (Small and Medium Enterprise) খাতে কাজ করা উদ্যোক্তাদের জন্য। গ্রামীণ নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার।
রফতানিকারকদের জন্য আগাম রফতানি সহায়তা – ১২,৭৫০ কোটি টাকাBangladesh Bank-এর Export Development Fund (EDF) এর পরিমাণ বাড়িয়ে রফতানিকারকদের সহজে অর্থায়ন।
কৃষি খাতের জন্য প্রণোদনা – ৫,০০০ কোটি টাকা। কৃষকদের স্বল্পসুদে ঋণ, সার-বীজের ভর্তুকি, খাদ্য নিরাপত্তায় উদ্যোগ। ব্যাংক থেকে মাত্র ৪% সুদে কৃষকরা ঋণ পায়।
প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহ বজায় রাখতে ২% নগদ সহায়তা। বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠালে প্রবাসীরা ২% ইনসেনটিভ পান। ফলে ২০২০ সালে রেমিট্যান্স বেড়ে রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছায়।
স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ – ২,০০০ কোটি টাকা। করোনা মোকাবেলায় ও চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে। PPE, মাস্ক, ওষুধ, আইসিইউ কেনা এবং হাসপাতাল প্রস্তুতিতে ব্যয়।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও নগদ সহায়তা – প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ ।মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারকে ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।
বাস্তবায়ন সংস্থা ও প্রক্রিয়া হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনায় মূল ভূমিকা পালন করে।বাণিজ্য, কৃষি, অর্থ, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নে কাজ করে।