
দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০২১ সালেও সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার অভাবে বড় ধরনের রাজনৈতিক সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। পাশাপাশি, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটও কার্যত ভেঙে পড়ে, যা দেশের রাজনীতিতে বিএনপি কে আরো অসুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জনসম্পৃক্ততা হারানো।বিএনপি ২০২১ সালেও তাদের চিহ্নিত আন্দোলন বা জনসমর্থন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়।জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে থাকায় দলটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।করোনা পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী কার্যক্রম চালাতে না পারা, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ইতিবাচক বিকল্প প্রস্তাব না থাকা তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
নেতৃত্ব সংকট ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরাজমান।দলপ্রধান বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা ও মামলার কারণে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকায় কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে বিএনপি।তারেক রহমানের বিদেশ থেকে ভার্চুয়াল নেতৃত্ব জনগণের মধ্যে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়।দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ ও সিদ্ধান্তহীনতা সাংগঠনিক স্থবিরতা সৃষ্টি করে।
২০ দলীয় জোটের ভাঙন হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের একাধিক শরিক দল ২০২১ সালে আলাদা অবস্থান নেয় বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, এলডিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ একাধিক দল কার্যত জোট কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ায় বা আস্থা হারায়।এ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে অনেকেই বিএনপির একনায়কতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, বৈঠক না হওয়া, ও ভিশনহীনতাকে দায়ী করেন।
সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার মুখ দেখে। বিএনপি একাধিকবার আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও রাজপথে বাস্তব উপস্থিতি দেখাতে পারেনি।ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোর কর্মসূচি ছিল খণ্ডিত ও লোকসমাগমবিহীন।২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস, জিয়া পরিবার স্মরণ দিবস, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কিছু ক্ষুদ্র কর্মসূচি ছাড়া জাতীয়ভাবে কোনো ঢাকঢোলপূর্ণ কর্মসূচি দেখা যায়নি।