
বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের নানা ব্যর্থতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে যা নৈতিক, আইনি ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অদক্ষতা: রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অতিরিক্ত ও যুগ্ম সচিব পদে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন, যার ফলে প্রশাসনে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন সরকার এদের অনেককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে, তবে এতে প্রশাসনিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে ।
নিয়োগে অনিয়ম: গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের পর তা দ্রুত বাতিল করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে ।
পুলিশের ধর্মঘট ও অপরাধ বৃদ্ধি: ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের উপর হামলা ও হত্যার পর পুলিশ ধর্মঘটে যায়, ফলে চুরি, ডাকাতি ও সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। জনগণকে স্বেচ্ছায় এলাকায় পাহারা দিতে হয়েছে ।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই মামলা করা হয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ।
ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ: স আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম তার সম্পদ জব্দ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, যা সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করেছে ।
সাংবাদিকদের হয়রানি: সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খানসহ অনেকের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে ।
ট্রানজিশনাল জাস্টিসের অভাব দেখা দিয়েছে। আগের সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে ।
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা: মাগুরায় ৮ বছরের এক শিশুর ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের ব্যর্থতা ও অবহেলা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে ।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস নিজেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ।জনগণের আস্থা হ্রাস পেয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন, যা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয় ।