
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পু জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর, পাবনা জেলার শিবরামপুর গ্রামে।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ১৯৮০ সালের শুরুতেই দৈনিক বাংলা পত্রিকার বাণী বিভাগে দুই বছর সাংবাদিকতা করেন। এরপর আইন পেশায় প্রবেশ করে পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারে মুন্সেফ (সহকারী জজ) পদে যোগদান করেন। বিচারক হিসেবে তার কর্মজীবন সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে চলে, ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে যুগ্ম জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা ও দায়রা জজ পদে দায়িত্ব পালন করে ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
সরকারি চাকরির সময় ১৯৯৯ সালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক আইন সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য চীনের বেইজিং ও অন্যান্য প্রদেশে সফর করেন। এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড সফর করেন, যা জাতিসংঘের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়। এই সফরে সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী এবং বেসামরিক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনের ঘটনার তদন্তের জন্য গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই কমিশনের প্রতিবেদন সরকার গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত সমন্বয়ক হিসেবেও কাজ করেছেন। বিচারকাজের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডেস্ক অফিসার হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালের ১৪ মার্চ তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০১৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন। দুদকের কমিশনার হিসেবে থাকাকালীন বিশ্বব্যাংক কর্তৃক উত্থাপিত পদ্মাসেতু সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন এবং অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেন। তার তদন্ত প্রতিবেদন কানাডার আদালতেও স্বীকৃত হয়।