
৪৮ ঘণ্টা হরতালের কারণে ব্যবসা ও অর্থনীতিতে যে ক্ষতি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা বিশেষভাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ব্যবসা-বাণিজ্যে সরাসরি ক্ষতি
• হরতালের সময় দোকানপাট, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকে।
• এতে দৈনিক ব্যবসা লেনদেন কমে যায় প্রায় ৩,০০০–৫,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত।
• ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, রাজশাহী ইত্যাদি বড় শহরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে মন্দাভাব দেখা যায়।
ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FBCCI)-এর হিসাবে প্রতি দিনের হরতালে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় গড়ে ১৫০০–২০০০ কোটি টাকা।
পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক্স ব্যাহত
• পণ্য পরিবহনে ট্রাক ও কন্টেইনার চলাচল বন্ধ থাকায়
• শিল্প কারখানায় কাঁচামালের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়
• সময়মতো পণ্য বাজারে পৌঁছায় না
• রপ্তানি পণ্যের চালানে দেরি, বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়
বিশেষত, গার্মেন্টস সেক্টরে অনেক ক্রয় আদেশ বাতিল হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়।
শিল্প খাতে উৎপাদন হ্রাস
• গার্মেন্টস, চামড়া, ওষুধ, সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কর্মীদের অনুপস্থিতি এবং কাঁচামাল না পৌঁছানোয় উৎপাদন ব্যাহত হয়।
• বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহার কমলেও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়, যা পরে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দৈনিক আয়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
• হকার, রিকশাওয়ালা, দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিকসহ প্রায় ২ কোটির বেশি মানুষ যারা দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল—তাদের আয় একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।
• এতে অসাম্য ও দারিদ্র্য বাড়ে এবং খাদ্যসঙ্কটের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব
• রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশি বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিহীন খাতে অর্থ সরিয়ে নেয়।
• বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (FDI) নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারায়, কারণ তারা স্থিতিশীল পরিবেশ চায়।
হরতালের সময় বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জেও (DSE) লেনদেন হ্রাস পায়।